হুমকিদানের ৩৯ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ডে সাংবাদিককে সাবেক এই এমপি বলতে শোনা যায়, তুই এগিন কি লেইখ্যুছদে? সাংবাদিক আমি নিজের থেকে কিছু লেখিনাই, যা লিখেছি আব্দুল গফুরের বক্তব্য লিখেছি। এতে উত্তেজিত হয়ে মা-মাশিধরে গালাগালি করে সাংবাদিককে হুমকি প্রদান করতে শোনা যায়। একই ভাবে আব্দুল গফুরকেও হাড্ডি গুড্ডি ভেঙে ফেলার হুমকি প্রদানের আরো একটি অডিও রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে পড়ায় পুরো এলাকাজুড়ে আলোচনা সমালোচনা এখন তুঙ্গে।
বিভিন্ন সভা-জনসভা,মিটিং -মিছিল ও সমাবেশ মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী পরিচয়ে গলা উঁচিয়ে বক্তব্য দিয়ে থাকেন বাঁশখালী আওয়ামীলীগ নেতারা। তবে কিছুদিন পরপর পরস্পর বিরোধী কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ও বিরূপ মন্তব্য করে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন ওইসব নেতারা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৯ জুন বাঁশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল গফুর বলেন, সাবেক এমপি কথায় কথায় বলে যে নিজের জন্যে বাড়ী করিনাই, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের জন্যে দলীয় কার্যালয় করেছি। এইসব কথা যারা বলে থাকে বা আওয়ামী লীগকে যারা নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে তাদের সময় শেষ।
আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতারা বলেন, আব্দুল গফুর সাহেব দীর্ঘদিন যাবৎ সাবেক এমপির সাথে ছিলেন, গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভোটগ্রহণের দিন ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে যখন নির্বাচন কমিশন (ইসি) মোস্তাফিজর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন, ঠিক তখনি নড়েচড়ে বসেন গফুর। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থাকলেও সাবেক এমপিকে নিয়ে গফুর সাহেবের আক্রমণাত্বক বক্তব্য বাঁশখালী আওয়ামী রাজনীতিকে ঘোলাটে করে দিয়েছে বলে মনে করেন এই প্রবীণ নেতারা।
কয়েকজন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগ করি, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করি। আর বাঁশখালী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আশ্রয়স্থল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এক সময় এই বাঁশখালী বিএনপি -জামায়াতের ঘাটি ছিলো কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি হওয়ার পর বাঁশখালী আওয়ামী লীগের ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। এসময় তাঁরা আরো বলেন, গফুর সাহেব সব সময় ভারী পাল্লায় লাফ দিয়ে বসেন, এটা তাঁর নতুন অভ্যাস নয়। তিনি সাবেক এমপি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সহ-সভাপতি মরহুম এডভোকেট সুলতানুল কবির চৌধুরীর সাথে, মোস্তাফিজ সাহেব এমপি হওয়ার পর লাফ দিয়ে সেখানে, গত ৭ জানুয়ারি মুজিবুর রহমান সিআইপি এমপি হওয়ার পর হুট করে লাফ দিয়ে সিআইপির কোলে গিয়ে নড়েচড়ে বসেন গফুর সাহেব। তাঁর এধরণের কর্মকাণ্ড সুস্থ ধারার আওয়ামী রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্যে বাঁশখালী আওয়ামী লীগকে ঘোলাটে করে দিচ্ছেন তিনি। দলের স্বার্থে নয় এমন মন্তব্যও করেন ওইসব জনপ্রতিনিধিরা।