মুহাম্মদ দিদার হোসাইনঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাঁশখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে গণযোগদান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী পৌরসভা মিয়ার বাজারস্থ শহীদ ইউসুপ কমপ্লেক্স চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাঁশখালী উপজেলা শাখা সভাপতি মুফতি নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এস এম ফয়জুল্লাহ'র সঞ্চালনায় গণযোগদান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. বেলাল নুর আজিজি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা উপদেষ্টা আল্লামা হাফেজ ফরিদ আহমদ আনছারী, দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা ছগীর আহমদ চৌধুরী, সেক্রেটারি এইচ এম রুহুল্লাহ তালুকদার, যুব আন্দোলন দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা মোবারক হোসাইন আসিফ, উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন মিজবাহ, সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, যুব আন্দোলন বাঁশখালী উপজেলা শাখা সভাপতি মাওলানা হাশেম বিন কাদের, ছাত্র আন্দোলন দক্ষিণ জেলা সভাপতি এম আতিকুর রহমান, উপজেলা সভাপতি হাবিবউল্লাহ সাদেকী, পৌরসভা সভাপতি মুহাম্মদ ফয়সাল।
এতে ইসলামী আন্দোলন বাঁশখালী উপজেলা শাখার ত্রাণ ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ওসমান গণী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ হাসান, অর্থ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সহকারী প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিনসহ ইসলাম আন্দোলন, যুব ও ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ কয়েক সহস্রাধিক কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম মুসলিম রাষ্ট্র হলো প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, প্রাচীনতম ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বুঝা যায়, উপমহাদেশে মুসলিম শাসকদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে কাওমী আলেম সমাজের আত্মত্যাগ ইতিহাস স্বীকৃত। ইসলামকে বাদ দিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে কেউ নাস্তিক্যবাদী প্রতিষ্ঠার দুঃসাহস দেখালে তাদের অস্তিত্ব মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সর্বাবস্থায় প্রস্তুত রয়েছে।
তবে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ এর জুলাইয়ে ছাত্র -জনতার দুর্বার আন্দোলনে ৫ আগস্ট যে গণবিপ্লব ঘটেছে তা বিশ্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। ধর্ম নিরপেক্ষতা মতবাদের কথা বলে যারা এদেশ থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা করেছিল তারা এখন নিজের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তবে তাদের প্রেতাত্মারা এখনো পর্যন্ত নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ক্লান্তিকর পরিস্থিতিতে আল্লাহর কুরআন এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাহকে বুকে ধারণ করে এদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সকল মতানৈক্যকে পদদলিত করে ইসলামী দল গুলোকে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করতে হবে।উপমহাদেশে ইসলামকে মডারেট করার ক্ষেত্রে জামায়াত ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর অবদানের প্রশংসা করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বাঁশখালী প্রেসক্লাবে সভাপতি সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুল মতলব কালু, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন, সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ, সদস্য সাংবাদিক মুহাম্মদ দিদার হোসাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বক্তব্য শেষে মনোজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, কলরব, নবজাগরণ, মদিনার ধ্বনি, নবরব, বিনির্মাণ, আল জাদিদ ও রেঁনেসাসহ বিভিন্ন সংস্কৃতিক সংগঠনের সংগীত শিল্পীরা সুললিত কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।