মুহাম্মদ দিদার হোসাইনঃ
বাঁশখালীতে রাকীব নামের এক কিশোরকে আটকে রেখে ফিল্ম স্টাইলে বিয়ে ভাঙলো বর পক্ষ , খবর শুনে আত্মহত্যা চেষ্টায় কনের বিষপান, বরের ঘরে আটকে রাখার প্রায় ১৮ ঘন্টা পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করলো পুলিশ।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কালীপুর ইউপির ৪ নং ওয়ার্ডের পালেগ্রাম এলাকার জাকের আহমদের বাড়িতে আটকে রাখা কিশোর রাকীবকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ যাওয়ার খবর পেয়ে আজিজের পরিবারের লোকজন ওই কিশোরকে তাদের ঘর থেকে বের করে পার্শ্ববর্তী মসজিদ সংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় ঢুকিয়ে রাখতে দেখা গেছে ,পরে পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে। তবে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত না করে ওই কিশোরকে দীর্ঘ ১৮ ঘন্টার বেশি সময় পর্যন্ত আজিজের ঘরে আটকে রাখা আইন সঙ্গত কিনা তা নিয়ে চলছে আলোচনা- সমালোচনা।
জানা গেছে, কালীপুর ৪ নং ওয়ার্ড পশ্চিম পালেগ্রাম এলাকার জাকের আহমদের পুত্র প্রবাসী মোঃ আজিজুর রহমান প্রঃ আজুর সাথে বাহারচড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রাম ৪ নং ওয়ার্ড এলাকার নুরুল আলম এর এক মেয়ের বিয়ে যথারীতিতে সামাজিক ভাবে পাকাপোক্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিক ভাবে কনে এবং বর আজিজের বিয়ে সম্পন্ন করতে পুরোদমে চলছিল উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিকতা।
শনিবার রাতের প্রথমদিকে কনের বাড়ীর পাশ্ববর্তী এলাকার নুরুল আলম এর ছেলে মোঃ রাকিব (১৯) নামে এক কিশোরের সাথে কনের প্রেমের সম্পর্কের অযুহাতে বরের ঘরে আটকে রাখা হয় রাকিব নামের ওই কিশোরকে। একপর্যায়ে বিয়ে ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন বরের বার জাকের আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন। এদিকে বিয়ে ভাঙ্গার খবর শুনে রবিবার দুপুরে আত্মহত্যা চেষ্টায় মেয়েটি বিষপান করছে বলে তার পরিবার সুত্রে জানা গেছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তার অবস্থা আশংকাজনক বলেও কনের পরিবার সুত্রে জানা গেছে।
বর আজিজের বাবা জাকের আহমদ বলেন, আমার ছেলের সাথে নুরুল আলমের মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করতে পুরোদমে আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। কিন্তু মেহেদী অনুষ্ঠানের রাতে রাকিব নামে এক ছেলে এসে মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে বলে কিছু আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি দেখান, যার কারণে আমরা তাকে আটকে রেখেছি, আর বিয়ে ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিয়ে সংক্রান্তে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বিষয়টি সমাধান করতে কনের পক্ষকে খবর দিয়েছি কিন্তু তারা আসেনাই। বিয়ে উপলক্ষে খরচ হওয়া টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন জাকের আহমদ ও তার পরিবার।তবে কোন ধরনের ভিডিও এবং ওই ভিডিও কার কাছে রয়েছে? জানতে চাইলে কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি নন বরের পক্ষের লোকজন।ছেলেটাকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছে তাও প্রাথমিক পর্যায়ে স্বীকার করেননি তারা।
অপরদিকে কনের মা বলেন, এতো কিছুর আয়োজন করেছি, এরই মধ্যে রাকিব নামে এক বখাটের সাথে আমার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক আছে বলে অযুহাত দেখিয়ে বর (ছেলের) পক্ষের লোকজন বিয়ে ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার খবর শুনে আমার মেয়ে বিষপান করে ফেলেছে। রাকিব নামে ছেলেটা কনের মামার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদাদাবি করছে বলেও অভিযোগ করেন মেয়ের মা।
কিশোর রাকিবকে উদ্ধার ও ঘটনা সংক্রান্তে জানতে চাইলে বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই মজনু বলেন, রাকিব নামে এক ছেলেকে বিয়ে বাড়ীতে আটকে রাখার খবর পেয়ে রামদাস মুন্সি হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই শাখাওয়াতের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, সেখান থেকে রাকীবকে উদ্ধার করে রামদাস মুন্সি হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে। কিশোর রাকিবকে আটকে রাখার বিষয়ে বর আজিজের পরিবার থেকে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল কিনা? অথবা কোনো অভিযোগ দিয়েছে কিনা? জানতে চাইলে পুলিশ মজনু বলেন, না, পুলিশকে জানানো হয়নি, লিখত কিংবা মৌখিক কোন অভিযোগও করেনাই, তবে একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রাকিবকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ মজনু।