মুহাম্মদ দিদার হোসাইনঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া রাইছটা ৮নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরী পাড়া (প্রঃ সুন্দীপাড়া) সংলগ্ন চর এলাকায় চিংড়ি ঘের (মাছের ঘোনার) বাঁধ সংস্কারের দোহাই দিয়ে দেদারসে কাটছে চর এলাকার মাটি, অবৈধ ভাবে চলছে রমরমা মাটি বাণিজ্য, স্থানীয় সিএনজি কামাল এবং দাত্ত কামালের নেতৃত্বাধীন মাটি খেকো সিন্ডিকেট চক্র প্রভাবশালী হওয়াতে তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখখোলার সাহস পায়না, প্রভাব খাটিয়ে লাখ লাখ টাকার মাটি বাণিজ্য করলেও দেখার কেউ নেই। সাঙ্গু নদী সংলগ্ন চর এলাকার সরকারি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মহল।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গেলে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে স্তুপ রাখতে দেখা যায়। এলাকার কয়েকটি পুরাতন পুকুরে মাটি ভরাট করার দৃশ্যও দেখা গেছে।অভিযোগ রয়েছে সিএনজি কামাল এবং দাত্ত কামালের নেতৃত্বাধীন প্রভাবশালী মাটি খেকো সিন্ডিকেট চক্রের নেতৃত্বে কাটা হচ্ছে ওইসব মাটি। দিনের বেলায় স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে স্তুপ করে রাখা হয়, আর রাতের আঁধারে ওইসব মাটি ডেম্পার (ট্রাক) যোগে বিভিন্ন এলাকায় সাপ্লাই করে থাকে। এতে লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপার্জন করে যাচ্ছে মাটি খেকো সিন্ডিকেট। আইনের তোয়াক্কা না করে মাসের পর সাঙ্গু নদী সংলগ্ন চর এলাকা থেকে এভাবে মাটি কেটে নেয়াতে একদিকে হুমকির মুখে পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চল, অপরদিকে শত শত একর সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের কবজায় চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরবতায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরবতার সুযোগে সাঙ্গু নদী সংলগ্ন চর এলাকার সরকারি সম্পত্তি জোরপূর্বক অবৈধ ভাবে দখল করে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মহল।
অভিযুক্ত সিএনজি কামাল বলেন, মাছের ঘোনা করার জন্য মাটি কাটছে তারা, মাটি কাটার জন্য পুলিশের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েছে বলেও জানান কামাল। কোনো পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে জানতে চাইলে কামাল জবাবে বলেন, বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অনুমতি নিয়েছি এবং পুলিশ এসে তদন্তও করেছে। তবে বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই নাছির উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমিতো কিছু জানিনা। এস আই জামালের সাথে যোগাযোগ করেন, কালকে কোর্টে স্বাক্ষী থাকায় তিনি গাড়িতে আছেন বলেও জানান।
বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন,মাটি কাটার বিষয়টি আপনি এসিল্যান্ড মহোদয়কে অবহিত করেন,মাটি খেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনে এসিল্যান্ড মহোদয়ের সাথে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হবে।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ওমর সানী আকন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।