মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পরিবারের সাথে রাগারাগি করে গত ১১ জুন জোহরের নামাজের কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে হন প্রবাস থেকে ফেরা সাইফুল আজম ইরফান (২৯) নামের এক যুবক, পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে পরিবারের লোকজন বাঁধার কারণ হওয়াতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার প্রায় ২৭ দিন পর পাহাড়ি জঙ্গলে মিললো লাশের সন্ধান, কাপড় -চোপড় দেখেই শনাক্ত করলো পরিবার।আত্মহত্যাকারী সাইফুল আজম ইরফান (২৯) উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাধনপুরের মোকামি পাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের পুত্র।
নিহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন (মঙ্গলবার) জোহরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হন সাইফুল আজম ইরফান, এরপর থেকে বাড়ি ফিরেননি ইরফান। নিখোঁজের দিন বিকেল পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটি খোলা থাকলেও কল দিতে দিতে একপর্যায়ে মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বাঁশখালী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন ইরফানের বাবা আব্দুল জলিল। নিখোঁজের ২৭ দিন পর সাধনপুর ৬ নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয়রা গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলন্ত কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন, পরিত্যক্ত কাপড় -চোপড় দেখে ইরফানের লাশ শনাক্ত করলো নিহতের বাবা আব্দুল জলিল ও পরিবার সদস্যরা।
বাঁশখালী থানা সেকেন্ড অফিসার কামরুল হাসান কায়কোবাদ জানান, এবিষয়ে ছেলেটার পরিবার একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল, ছেলেটা প্রবাসে থাকতো, কোনো এক মেয়ের সাথে ওই ছেলেটার সম্পর্ক ছিলো, পরিবার তার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে বাঁধা দেয়ার ফলে হয়তো পরিবারের সাথে মান-অভিমান করে ঘর থেকে বের গলায় লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে, তবে বিষয়টি আরো ক্লিয়ার করে জানতে তদন্ত স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।
এবিষয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত (ওসি) সুধাংশু শেখর হালদার জানান, ছেলেটা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে ছিলো, প্রবাস থেকে বাড়ীতে আসার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বিয়ে করাতে চেয়েছিলো, কিন্তু তার পছন্দের মেয়ে থাকায় সে অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হননি, এতে তার পরিবারের সাথে রাগারাগি করে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়, পরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্ম হত্যা করেছে, আত্মহত্যা করার পূর্বে ছেলেটা তার বন্ধুদের কাছে এবিষয়ে মোবাইলে মেসেজ পাঠাইছে, লাশটি পঁচে গলে গেছে, গতকাল লাশের সন্ধান পাওয়া পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সুধাংশু শেখর হালদার।