চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভায় সড়কে লাইটিং সংযোগের জন্যে আসা বরাদ্দের বৈদ্যুতিক তার লাগানোর আগেই উধাও হয়ে গেছে ৪ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তার। এমন অভিযোগে পুরো এলাকাজুড়ে আলোচনা -সমালোচনা এখন তুঙ্গে।
বাঁশখালী পৌরসভা দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়াতে সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা করে রাতে নিরবিচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক সংযোগ ও লাইটিং কাজের জন্য চাহিদা মোতাবেক ১০ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তারের বরাদ্দের দায়িত্ব পান মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তার কেনা দায়িত্ব পেলেও তার ক্রয় করেছে মাত্র ৬ হাজার মিটার। আরো ৪ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তার গায়েব করছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে পৌরসভা অফিসের প্রধান গেইটে ৪টি তারের বান্ডিল দেখা যায়। ওই ৪ বান্ডিল তারের প্রতি বান্ডিলে ১৫শ মিটার করে তার রয়েছে, এই হিসেবে ৪ বান্ডিলে তার হয় ৬ হাজার মিটার। প্রতি বান্ডিলে ১৫ শ মিটার করে হিসেব করলে বরাদ্দ অনুযায়ী ১০ হাজার মিটারে সাড়ে ৬ বান্ডিল তার থাকার কথা থাকলেও ৪ বান্ডিলে মাত্র ৬ হাজার মিটার তার দেখা গেছে।
মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তার ক্রয়কালে নয়-ছয় করে আরো ৪ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তার আত্মসাৎ করার। এছাড়াও সংশ্লিষ্টরা প্রতি বান্ডিলে ২ হাজার মিটার তার আছে বললেও তদন্তকালে দেখা গেছে প্রতি বান্ডিলে তার রয়েছে ১৫শ মিটার করে । এই হিসেবে ৪ বান্ডিলে তার হয় মাত্র ৬ হাজার মিটার, কিন্তু ১০ হাজার মিটার বুঝে পেয়েছে বলে ভাউচার করে দেন স্টোর কিপার।
পৌরসভা স্টোর কিপার আবু তাহের বলেন, আমাকে ৬ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই ৬ হাজার মিটার তারের কথা বলতে পারবো, বাকী তার কি করছে বা কোথায় গেলো সেটা আমি জানিনা। কিন্তু ১০ মিটার তার বুঝে পেয়েছে মর্মে হিসাবের ভাউচার প্রদান সংক্রান্তে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
পৌর সচিব তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি দেখা হবে, কত মিটার তার কেনার কথা কিনছে কত মিটার তা সংশ্লিষ্টদের ডেকে জিজ্ঞেস করা হবে, তার কম থাকার বিষয়টি আমিও শুনেছি, তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন সচিব তৌহিদুল।
এবিষয়ে কাজের দায়িত্ব পাওয়া মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারী আনিসুজ্জামান আবিদের সাথে যোগাযোগ করলে বরাদ্দ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তার কিন্তু আমি নিজে ক্রয় করিনাই, হয়তো কিছু তার কম আছে। তবে পৌরসভায় আমার সিকিউরিটি বিল বাকি আছে, বকেয়া বিলের টাকা দিলে যে পরিমাণ তার কম আছে তা আমি পুষিয়ে দিবো।