
দৈনিক সবুজ বাংলা ডেস্কঃ
বাঁশখালীতে মো.শরীফ নামে এক লোকের ট্রোকে মৃত্যু হলেও জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় হত্যা মামলা সাজিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ফাঁসানো চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ডোংরা ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার লিয়াকত আলীর পরিবার এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড পূর্ব ডোংরা এলাকার মাতব্বর বাড়ির মৃত্যু মো. ইসমাইলের পুত্র মোহাম্মদ শরীফ গংদের সাথে জায়গা জমি সংক্রান্তে বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে জায়গা পরিমাপের জন্য স্থানীয় আনোয়ার, মোস্তাফিজসহ গন্যমান্যদের মধ্যস্থতায় দুইজন সার্ভেয়ার দিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে প্রাথমিক ভাবে জায়গা পরিমাপ করা হয়। পরিমাপ শেষে দুপক্ষের লোকজন যার যার বাড়ি ঘরে চলে যাওয়ার প্রায় এক-দেড় ঘন্টা পর ওই এলাকার একটি দোকানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে মাটিতে পড়ে যান মো.শরীফ, স্থানীয় কামাল উদ্দিন ও ভিকটিমের ভাই হাসান শরীফসহ তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। তার ছেলে মোঃ আসিফ ফেইসবুকে পোস্ট করেছিল তার বাবা অসুস্থ বলে সকলের দোয়া চেয়েছে, স্ট্রোক করেছে বলেও তার কমেন্টসে লিখেন আসিফ, পরে সে পোস্ট ডিলেট করে দেন তিনি। মো.শরীফ স্ট্রোকে মারা গেলেও তার ভাই আমীন শরীফ বাদী হয়ে ইউপি সদস্য লিয়াকত আলীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় কামাল উদ্দিন বলেন, মো.শরীফ মাথা ঘুরিয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর আমি তার ভাই হাসান শরীফকেসহ নিয়ে ড্রাইভার আলমগী পরিচালনাধীন একটি সিএনজিতে করে চৌধুরী হাটে ডা. রাসেল এর চেম্বারে নিয়ে গেলে ওই চিকিৎসক মো.শরীফের প্রেসার পরিমাপ করতে চাইলেও তার শরীরের প্রেসার না থাকায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার। পরে মো.শরীফকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায় তার স্বজনরা, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো.শরীফ মৃত্যু বরণ করেছে বলে শুনেছি।
এবিষয়ে মো. শরীফের ছেলে মো. আসিফ তার বাবা অসুস্থ বলে সকলের কাছে বাবার জন্যে দোয়া চেয়ে md Asif chy নামক তার সেইসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। এতে তার ফেইসবুক বন্ধুরা তার বাবার কি হয়েছে? জানতে চাওয়াতে তাদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ লিখেন বাবা স্ট্রোক করেছে, কখন করেছে? আসিফ বলেন বিকেলে বলে স্বীকার করেন, পরবর্তীতে আসিফ তার ফেইসবুক আইডি থেকে সেই পোস্টটি ডিলেট করে দিলেও ওই পোস্টের কমেন্টসের একটি স্ক্রিন কপি পর্যালোচনায় এইসব লেখা দেখা যায়।
ভিকটিমের ছেলে নিজেও ফেইসবুক পোস্টে তার বাবা স্ট্রোক করেছে বলে লিখলেও প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করাতে তিনি মৃত্যু বরণ করেছে মর্মে মিথ্যা অভিযোগ এনে ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. লিয়াকত আলী, তার ভাই শওকত আলী, নবাব আলী এবং এলাকার সৈয়দ আহমদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮জন অস্ত্রধারী লোক রয়েছে মর্মে মিথ্যা অভিযোগ করে মো. শরীফের ভাই আমীন শরীফ বাদী হয়ে ২২ ডিসেম্বর ২৪ ইং তারিখে বাঁশখালী থানায় গিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে একটি মামলা দায়ের করেছে বলেও জানান তারা। মিথ্যা অভিযোগে দায়েরকৃত সাজানো এই মামলা থেকে বাঁচতে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সরেজমিনে গিয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে এবিষয়ে জানতে চাইলে ভিকটিমের আপন বোন রিজিয়া বেগম এবং স্থানীয় কামাল উদ্দিন, আলমগীর, মোস্তাফিজ, আনোয়ারসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ বলেন, জায়গা পরিমাপ করার বিষয়টি সত্য , তবে কোন ধরনের মারামারির ঘটনা ঘটেনাই। মুলত মো.শরীফ মাথা ঘুরিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল, এসময় তিনি কাপড়-চোপড়ে পায়খানা -প্রস্রাবও করে দিয়েছিলেন।
তবে ভিকটিমের মেয়ে (পুলিশ) আফসানা আক্তার বলেন, জায়গা পরিমাপের সময় তারা আমাদের জায়গাতে খুঁটি গেড়ে দেয়, খুঁটি গেড়ে দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করাতে আসামীরা আমার বাবাকে মারধর করে দোকানের উত্তর পাশে ফেলে রাখে, আমার বাবাকে প্রথমে ডাক্তার রাশেদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, ডাক্তার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন, তাই আমার পরিবারের লোকজন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যায়, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন বলে দাবি করেন মেয়ে আফসানা আক্তার।
গ্রাম ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, মো.শরীফকে আমার চেম্বারে আনা হয়েছিল, আমি তার স্বজনদের কাছ থেকে কি হয়েছে জানতে চেয়েছি, জবাবে তারা বলেছিল তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে মাটিতে পড়ে গেছেন। আমি তার প্রেসার রেকর্ড করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রেসার পাওয়া যায়নি, তাই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম, তার শরীরে কোন ধরনের আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন কিনা বা তাকে মারধর করা হয়েছে এমন কোন কথা তার স্বজনরা বলেছিল কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, তার শরীরে কোন ধরনের আঘাত দেখিনি, এমনকি তার স্বজনরাও আমাকে এধরণের কোন কথা বলেনি, তারা বলেছিল তিনি স্ট্রোক করছেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকেও বলেছেন বলেও জানান ডা. রাশেদ।
একই ভাবে সার্ভেয়ার হাফেজ আহমদ এবং সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম বলেন, দুপক্ষের সম্মতিতে জায়গা পরিমাপ করেছি, আমাদের উপস্থিততে সেখানে কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি, পরে কি হয়েছে সেটা আমরা জানিনা।
এবিষয়ে আসামীপক্ষের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. আমীন শরীফ গংরা আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে, মুলত ওইদিন তাদের সাথে আমাদের কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি, এরপরেও ভিকটিমের তার ভাই আমীন শরীফ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে মিথ্যা অভিযোগে আমাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। দায়েরকৃত এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান ভুক্তভোগীরা।
এবিষয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত সুধাংশু শেখর হালদার জানান, ভিকটিমের ভাই আমীন শরীফ বাদী হয়ে মো.শরীফকে হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত ভিকটিমের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসেনাই। রিপোর্ট আসলেই বুঝতে পারবো তিনি কি স্ট্রোক করে মারা গেছেন নাকি তাকে মারধর করা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছেনা বলেও জানান সুধাংশু শেখর হালদার।
Leave a Reply