
দৈনিক সবুজ বাংলা ডেস্কঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারার আনোয়ার নামে এক ওমান প্রবাসীর জায়গা দখল ও দোকানের ক্ষতি সাধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, ন্যায় বিচারের আশায় দীর্ঘদিন যাবৎ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও বিচার না পাওয়াতে হতাশ হয়ে পড়েছে গণ্ডামারা ইউপির ১নং ওয়ার্ড এলাকার ইজ্জত আলীর ছেলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা আনোয়ারের পরিবার।
প্রবাসী আনোয়ার রবিবার (২১ এপ্রিল) প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, আমি বর্তমানে ওমানে আছি, গণ্ডামারা বাজার সংলগ্ন মিয়াজী বাড়ির আবুল হাচেন এর কাছ থেকে বিগত ২০০৫ সালের জুন মাসের ৫০৪৪ নং সাব রেজিস্ট্রী দলিল মুলে বিএস ৩০২ নং খতিয়ানের বিএস ৪১৯৮ দাগে তাহার প্রাপ্ত অংশ ২৯.৫৩ শতক জায়গা থেকে ১২ শতক জায়গা আমি ক্রয় করি। আমার দলিলের আপোষ চিহ্নিত দাগ ও চৌহদ্দি অনুযায়ী দলিলদাতা আবুল হাচেন উক্ত বিএস দাগের মধ্যাংশে আপোষ চিহ্নিত মতে ১২ শতক জায়গা আমাকে দখল বুঝিয়ে দেন। পরে আমার নামে বিএস নামজারি ১৮০৯ নং খতিয়ান সৃজন করিয়া উক্ত জায়গার প্রায় ৪ গন্ডা জায়গাতে বহু অর্থ ব্যয়ে মাটি ভরাট করে পাকা দোকান নির্মাণ করিয়া শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখল থাকিয়া দোকান গৃহ ভাড়া প্রদান করিয়া মাসিক ভাড়া বাবত প্রাপ্ত টাকা দিয়ে আমার সন্তানদের পড়া-লেখার খরচ বহন করে থাকি।
কিন্তু আমি ওমান প্রবাসে থাকার সুযোগে আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ১ নং ওয়ার্ড এলাকার রশিদ আহমদের পুত্র আওয়ামী নেতা আজিজ আহমদ তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হাফেজ মোর্শেদ আলম এর কাছ থেকে জায়গা কিনেছে বলে অযুহাত দেখিয়ে আমার দখলীয় প্রায় ২ গন্ডার অধিক জায়গা থেকে আমাকে উচ্ছেদ করে জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে আজিজ। পরে ওই জায়গাতে সে দোকান নির্মাণ করার সময় আলাদা দেয়াল নির্মাণ না করে আমার নির্মিত দোকানের দক্ষিণ পাশের দেয়ালটি দখল করে আমার দোকানের দরজা-জানালা ঝালাই করে দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। এবিষয়ে দফায় দফায় শালিসি বৈঠক হলেও বৈঠকের কোন সিদ্ধান্তকে মানছেনা আওয়ামী নেতা আজিজ। আলাদা দেয়াল নির্মাণ না করে আমার দোকানের দক্ষিণ পাশের দেয়ালটিও সে দখল করে ফেলেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে দোকানের জানালা বন্ধ করে দিয়ে দেয়াল দখলে নেয়ার দৃশ্য দেখা যায়, বাজারের বেশ কিছু ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এবিষয়ে ন্যায় বিচারের আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা প্রশাসনের কাছে বারবার ঘুরাঘুরি করলেও কোনো প্রতিকার পাইনি। দায়িত্ব পাওয়া বিচারকরা আজকাল করিয়া শুধু সময় ক্ষেপণ করিতে থাকেন। পরে উক্ত বিচারকরা অর্থ লোভে পড়ে বিবাদী আজিজের পক্ষে একতরফা ভাবে সাফাই গাইতে শুরু করেন এবং আমার বিচার করিতে পারবেনা বলে ছাফ জানিয়ে জবাব দেন।এতে আমি বাদী হয়ে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার নুরে আলম বরাবর এবং বাঁশখালী অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাঁশখালী থানা পুলিশ এস আই হাবিবুর রহমান সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জায়গায় পরিমাপসহ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করেন। পরে বিবাদীকে আমার জায়গা ও দোকানের দেয়াল ছেড়ে দিয়ে তাকে আলাদা দেয়াল নির্মাণ করতে বললেও বিবাদী আজিজ উক্ত সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরেও আমার দোকানের দেয়াল ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে অদ্যবধি পর্যন্ত আমার জায়গা ও দেয়াল ছেড়ে না দিয়ে উল্টো আমি ও আমার পরিবারকে প্রাণে মারার হুমকি ধমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত আজিজ। ভুক্তভোগী আনোয়ার আরও বলেন,
আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা, ওমান প্রবাসে থাকি। আমি পুনরায় ওমানে চলে আসার পর আমার ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে, যাহা বর্তমানে থানা পুলিশ এস আই আজিজুর রহমানের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। ন্যায় বিচার পেতে বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী রেমিট্যান্স যোদ্ধা আনোয়ারের পরিবার।
অপরদিকে আজিজ প্রবাসীর জায়গা দখলের কথা স্বীকার করে বলেন,আমিও জায়গা কিনেছি, তবে দোকান নির্মাণ করার সময় আনোয়ারের এক-দেড় ফুট মতো জায়গা আমার দোকানের ভিতরে পড়ছে, বিষয়টি প্রবাসী আনোয়ারের সাথে বসে আমি সমাধা করে নিবো এবং আনোয়ারের দোকানের দেয়ালটিও ছেড়ে দিয়ে আলাদা দেয়াল করে দিবে বলেও জানান আজিজ।
বাঁশখালী থানা পুলিশ এস আই আজিজুর রহমান বলেন, এই অভিযোগটা প্রায় ৬-৭মাস আগেই করা হয়েছিল, মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিলাম, জায়গা সংক্রান্তে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্যে তাদেরকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
Leave a Reply