
দৈনিক সবুজ বাংলা ডেস্কঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সরলে লবণ মাঠ নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেছে বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে।
আহতরা হলেন – সরল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড এলাকায় মৃত কামরুদ্দিনের ছেলে মোঃ ফোরকান (২২), মফিজুর রহমানের পুত্র শাহাবুদ্দিন (৪০), আব্দুর রহমানের পুত্র মোঃ আরমান (১৭), বদিউল আলমের পুত্র সিরাজ (৪২), মৃত কামরুদ্দিনের পুত্র ডাঃ গিয়াস উদ্দিন।
অপর পক্ষের আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ ফোরকান (৩০), মোহাম্মদ মাহিম (১৮), মোঃ লোকমান, মোঃ ফোরকান, জমির উদ্দিন, নুর হোসেন (৩৭)কে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আহতদের মধ্যে অন্যান্যরা হলো- আজিজুর রহমান (৫০), মোহাম্মদ দেলোয়ার (৩৮), শাহজাহান (৩০), মোহাম্মদ রুবেল (৩১), জমির উদ্দীন (৫০) ও আবদুল করিম (৪৫), শাহাব উদ্দিন, শাহাজাহান, আব্দুস সবুর, আনিসুর রহমান, ফরিদ, আব্দুল আলীম, তৈয়ব, বেলাল উদ্দিন, মোবারক হোসেন (নয়ন),শাকিল, রাশেদ, পারভেজ, ইউনুস, মোঃ হাবিব উল্লাহ, আবু তালেব ও সৈয়দ নুরসহ আহতরা বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষ বাড়ি ফিরে গেছে বলে জানিয়েছে স্বজনরা।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার উপকূলের সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল নতুন বাজার এলাকায় লবণ মাঠের বিরোধ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সেনাবাহিনী সদস্যদেরকেও ওই এলাকায় টহলরত অবস্থায় দেখা গেছে।
আহত ডাঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উত্তর সরল এলাকার জাফর আহমদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন এবং মনসুর আলম মেম্বার গ্রুপের লোকজন অস্ত্র -শস্ত্র নিয়ে নতুন বাজারস্থ আমার ঔষধের দোকানে এসে অতর্কিত হামলা চালায় এবং তারা আমাকে দোকান থেকে বের করে মারধর শুরু করে, এসময় আমার ভাই ফোরকান আমাকে উদ্ধার করিতে আসিলে তাকেও তারা বেধড়ক মারধর করে।
একপর্যায়ে তাদের আরও অন্তত ৩০-৪০ লোক সশস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে শুরু করে। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে আরও বেশ কিছু লোক হয়েছে। এসময় হামলাকারীরা আমরা ঔষধের দোকানে ভাংচুর ও মালামাল লুটে করে কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলেও জানান গিয়াস উদ্দিন, দেলোয়ার ও মনসুর মেম্বারের লোকজন অস্ত্র হাতে নিয়ে ডাঃ গিয়াস উদ্দিনের লোকজনের উপর সরাসরি গুলি করার বেশ কয়েকটি ভিডিও -ছবি প্রতিবেদকের হাতে দিয়েছে গিয়াস উদ্দিন।
অপরদিকে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি লবণ মাঠ থেকে ফেরার পথে নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছলে লবণ মাঠ নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধের জের ধরে আমানুল্লাহ ও কবিরের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষরা আমাকে মারধর করে আমার পকেট থেকে ১লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার পর এই ঘটনার সুত্রপাত হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দেলোয়ারের পক্ষের লোকজন আগাইয়া আসিলে দু’পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে দেলোয়ারের পক্ষের অন্তত ১৫-১৬জন লোক আহত হয়েছে বলে জানান দেলোয়ার।
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বাঁশখালীর সরলে দীর্ঘ দিন ধরে দুটি পক্ষের মাঝে লবণ মাঠ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল, লবণ মাঠ সংক্রান্তের বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে,ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সেনাবাহিনী সদস্যরাও ঘটনাস্থলে রয়েছে।
ক্যাপশনঃ ছবিঃ দেলোয়ার ও মনসুর গ্রুপের লোকজন অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে গিয়াস উদ্দিন গ্রুপের উপর হামলা ও গুলিবর্ষণের দৃশ্যঃ
Leave a Reply