
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় রাতারাতি জোরপূর্বক জায়গা দখল ও স্ক্যাভেটর দিয়ে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোঃ কালু বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাঁশখালী ক্যাম্পে একটিসহ মোট দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দায়ের করা অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বড়ঘোনা ৪ নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত ইসমাঈলের ২ সংসারে ১০পুত্র ও ৪ কণ্যা সন্তান রয়েছে। মোঃ ইসমাইল মৃত্যু বরণ করায় উক্ত ১০ পুত্র ও ৪ কন্যা তৎসম্পত্তির ওয়ারিশ হয়। উক্ত ওয়ারিশগণ মৃত ইসমাঈলের রেখে যাওয়া সম্পত্তির মালিক হওয়াতে যার যার সুবিধা মতে ভোগদখলে থাকলেও এরইমধ্যে তার সন্তান মোঃ মফিজ গংদের কাছ থেকে জায়গা খরিদ করার অযুহাতে স্থানীয় শাহ আলম নামে এক প্রভাবশালী গোপনীয় ভাবে ভুমি অফিসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে শুধু একটি মাত্র বিএস ১৫০৭ দাগে নামজারি খতিয়ান সৃজন করে নেয়। যাহা মৃত ইসমাইলের পুত্র আলী হোসেন, জমির হোসেন গংরা পৈত্রিক ও খরিদা মুলে পূর্ব থেকেই ভোগদখলে রয়েছে। নামজারি খতিয়ান সৃজনের বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী আলী হোসেন গংরা ওই নামজারি খতিয়ানাদি বাতিলের জন্য বাঁশখালী সহকারী কমিশনার (ভুমি)তে মিচ- মামলা দায়ের করে, উক্ত মামলার সুবাদে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের মালিকনা ও দখল স্বপক্ষে একটি প্রতিবেদনও দিয়েছে চাম্বল ভুমি অফিসের তহসিলদার।
এরইমধ্যে সৃজিত খতিয়ানাদি বাতিলের জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের দায়েরকৃত মিচ-মামলা সম্পর্কে জানতে পেরে প্রভাবশালী শাহ আলম তার দলবল নিয়ে রাতারাতি তড়িঘড়ি করে জোরপূর্বক জায়গা দখল ও স্কেভেটর দিয়ে কৃষি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে দু’টি অভিযোগ করেছে আলী হোসেন, জমির হোসেন, আনসার, ছকিনা বেগমসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মাটি কেটে নেয়া ও জায়গা দখলের সময় ভিডিও ধারন করতে চাইলে ভুক্তভোগী সেকান্দরের কাছ থেকে ওই প্রভাবশালীরা মোবাইল কেড়ে নেন। পরে মোবাইলটি তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ভুক্তভোগীর কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নেয়া ও জায়গা দখল করে ঘেরাবেড়া দেয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অপরদিকে বিবাদী পক্ষের শাহ আলমের পুত্র আলী হায়দার ও মোজাম্মেলের স্ত্রী মিনু আরা বেগম বলেন, মৃত ইসমাঈলের প্রথম স্ত্রীর পুত্রের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে আমরা জায়গা কিনেছি। জায়গা ক্রয় করার সময় এই দাগে দখল দিবে বলেছিল, কিন্তু দখল দিচ্ছে না তাই আমাদের জায়গা আমরা দখল করে নিয়েছি। যাদের কাছ জায়গা কিনেছেন তারা এই দাগে কতটুকু জায়গা পাবে? জানতে চাইলে সেটা জানে না বলে আমতা আমতা করে চলে যান তারা।
তবে স্থানীয় সালিককার মোঃ সরওয়ার ও সাবেক এক ইউপি সদস্য বলেন, জায়গার মুল মালিক মৃত ইসমাঈল। তার মরণের পর থেকে দুই সংসারের সন্তানরা অপরাপর দাগাদির ন্যায় বিএস ১৫০৭ দাগের জায়গাটিও হিস্যামতে ভোগদখলে রয়েছে। হিস্যা অনুযায়ী উক্ত দাগের ৩০শতক জায়গার মধ্যে খরিদা মালিক শাহ আলম ও মোজাম্মেল মাত্র ০.০৫ একর জায়গা পাওয়ার কথা থাকলেও আতিগোপনে দাগটিতে আরও ০.৮৫০ একর জমি অতিরিক্ত নামজারি করে নিয়েছে তারা। বর্তমানে উক্ত দাগের ৩০ শতক জায়গার পুরো অংশই জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী শাহ আলম ও মোজাম্মেলের লোকজন। এবিষয়ে বেশ কয়েকবার সালিশী বৈঠকও হয়েছিল,বৈঠকের শুরুতে একবার উপস্থিত হলেও পরবর্তী কোন বৈঠকে আসে নাই বিবাদী শাহ আলম ও মোজাম্মেলের পরিবার। গোপনে সৃজন করা নামজারি খতিয়ানাদি বাতিলের জন্য ভুক্তভোগী আলী হোসেন গং কর্তৃক দায়েরকৃত মিচ- মামলার খবর জানতে পেরে এরইমধ্যে শাহ আলম ও মোজাম্মেল নামের ওই প্রভাবশালীরা তাদের লোকজন নিয়ে স্কেভেটর দিয়ে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়েছে এবং আলী হোসেন, জমির, আনসার, ছকিনা বেগমসহ দখলে থাকা ভুক্তভোগীদেরকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে রাতারাতি জায়গা দখল করে নিয়েছে এই প্রভাবশালীরা।
Leave a Reply