
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বিবাহের ৩বছর পেরিয়ে গেলেও স্ত্রীর স্বীকৃতি পাননি শারমিন, পরে বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুরে এসে স্ত্রী স্বীকৃতির দাবিতে সাবেক এক ইউপি সদস্যের বাড়ীতে শারমিন আক্তারের অবস্থান,এই নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড বৈলগাঁও গ্রামে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন ওই নারী। স্ত্রীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়েছে স্বামীসহ বাড়ির লোকজন।
ভুক্তভোগী স্ত্রী শারমিন আক্তার ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলা সাধনপুর
ইউনিয়নের বৈলগাঁও গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফেরদাউসের সাথে ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের ৩১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ জালালাবাদ এলাকার আবু তৈয়ব এর মেয়ে শারমিন আক্তারের পারিবারিক ভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
ওই এলাকার কাজী মৌলানা জামাল উদ্দিন এর মাধ্যমে বিবাহের কাবিননামা সম্পাদন করা হয়। বিবাহের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসায় স্বামী ফেরদৌস স্ত্রী শারমিন আক্তারকে নিয়ে সংসার করলেও বর্তমানে স্ত্রী শারমিনের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ফেরদৌস। কিন্তু স্বামীর সাথে সংসার করতে অনেকটাই পাগলপারা এখন স্ত্রী শারমিন। অবশেষে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বামীর বাড়িতে এসে অবস্থান নেন শারমিন। ইউপি সদস্য ফেরদৌসের বাড়ীতে এসে তার স্ত্রী শারমিনের অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকাজুড়ে আলোচনা -সমালোচনা এখন তুঙ্গে।
বিবাহ পুর্বে তাদের পরস্পরের পরিচয় সংক্রান্তে বর্ণনা দিতে গিয়ে শারমিন আক্তার বলেন,আমি ব্যক্তিগত কাজে সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের গেলে আমাকে দেখে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফেরদাউস কৌশলে আমার পরিচয় নেন। পরে আমার কাছ থেকে হঠাৎ আমার ফোন নম্বর চেয়ে বসে। আমি দিতে না চাইলেও তিনি বলেন একটি ভালো চাকুরীর খবর আছে বলে আমার ফোন নম্বরটি নেন।
পরে আমার ফোনে এসএমএস করেন আমি কোথায় থাকি তা ঠিকানা জানতে চাইলে তাকে জানালে। পরে সেই বাসায় এসে আমাকে খারাপ প্রস্তাব দিলে আমি রাজি না হলে বিয়ের প্রস্তাব দেন।পরে আমার মাকেও বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন।পরে জোরজবরদস্ত করে ২০২৩ সালের এপ্রিলের ২ তারিখ কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন।বিয়ের পর প্রথম প্রথম রাত্রি যাপন করলেও পরে দিনের বেলায় বাসায় আসে দুই তিনঘন্টা পরে চলে যায়। তার এই অবস্থা দেখে ২০২৪সালে আমি নিজে তাকে তালাক প্রদান করি। এরপর সে আমাকে আবার ফুসলিয়ে পারিবারিক স্বীকৃতি দিবে বলে নতুন ভাবে বিয়ে করে এর কয়েকদিন পর আমাকে পতিতার ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন জনের সাথে পরিচয় হতে বলে আমি পারবনা বললে এরপর থেকে আমার সঙ্গে এবং আমার পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। এজন্য আমার স্বামীর বাড়িতে আজ চলে এসেছি। কিন্তু আমি এখানে আসার সাথে সাথে বাড়ির সবাই পালিয়েছে। আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া উপায় নেই। দীর্ঘ সময় ধরে স্বামী ফেরদাউসের বাড়িতে শারমিনের অবস্থানের পর ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি একসপ্তাহের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেয়াতে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিজ বাসায় ফিরে যান বলে জানিয়েছে স্ত্রী শারমিন আক্তার। তবে এই বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান কে এম সালাউদ্দিন কামাল এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply