
দৈনিক সবুজ বাংলা ডেস্কঃ
বাঁশখালীতে চুরির অপবাদ দিয়ে পূর্ব গুনাগরী এলাকার মোঃ রাশেদ মিয়া (২২) নামের এক অটোরিকশা গ্যারেজ মালিককে গাছে পাট্টা দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখম করেছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৩ টার দিকে বাঁশখালী -সাতকানিয়া সংযোগ সড়কস্থ আদর্শ গ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। আহত মোঃ রাশেদ মিয়া কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গুনাগরী ১ নং ওয়ার্ড এলাকার মোঃ মঞ্জুর মিয়ার পুত্র।
আহত রাশেদ মিয়ার বাবা মঞ্জুর মিয়া বলেন, গতকাল (শুক্রবার) রাতে আদর্শ গ্রাম এলাকার মোঃ ফরিদের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাতকানিয়া থানার কাঞ্চন ফুলতলা এলাকার মিনহাজ নামে এক চোরকে ধরে দোকান মালিক ফরিদ ও তার ছেলেরা মারধর করেছে এবং ওই চোরকে ছেড়ে দিবে বলে তারা জোরকরে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমার ছেলের নাম শিকার করাইছে। তারপর ফরিদ আহমদ ও তার ছেলেরাসহ আরো ৪/৫ জন লোক এসে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গাছের বাটাং দিয়ে পিটিয়ে পুরো শরীরে মারাত্মক ভাবে আঘাত করছে। আমি বাঁধা দেয়াতে আমাকেও মারধর করছে তারা।
পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আমার ছেলেকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠাইছে। আমার ছেলে সেখানে একটি অটোরিকশার গ্যারেজের দোকান করে। কিন্তু কোন ধরনের চুরিচামারির সাথে আমার ছেলে জড়িত নয়। উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে জোরপূর্বক এক চোকরে মারধর করে আমার ছেলের নাম বলাইছে। চোরের কাছ থেকে জোরপূর্বক আমার ছেলের না শিকার করাইয়া তারা আমার ছেলেকে মারধর করেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। ঘটনার বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে ভিকটিম রাশেদ মিয়ার বাবা মঞ্জুর মিয়া।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভিকটিম রাশেদ মিয়ার শরীরে বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মিনহাজ নামে ওই চোর বলছে, ফরিদ আহমদের দোকান থেকে আমি একটি গ্যাসের বোতল, কয়েকটি দুধের পট চুরি করেছিলাম,আমার সাথে আর কেউ ছিলনা, কিন্তু দোকান মালিক ফরিদ এবং তার ছেলে মোর্শেদ, খোরশেদরা আমাকে বেধে গাছের পাট্টা, লোহার রড় দিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে। এসময় তারা আমাকে জোরকরে রাশেদ মিয়ার নাম বলতে বলছে, অথচ মিয়া আমার সাথে ছিলোনা, আমি তার না কিভাবে বলবো? একথা বলাতে তারা আমাকে আরো বেশি নির্যাতন শুরু চালায়, তার নাম না বললে আমাকে মেরে ফেলবে বলছে এবং পুলিশে দিবে বলছে। আমি তাদের মাইর সহ্য করতে না পেরে রাশেদ মিয়ার নাম বলতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু রাশেদ মিয়া চুরির ঘটনা সম্পর্কে মোটেও জানতোনা। তবুও তারা রাশেদ মিয়ার নাম বলতে বাধ্য করেছে স্বীকার করলো চুরির ঘটনাকারী মিনহাজ।
এই বিষয়ে রামদাস মুন্সি হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাব- ইন্সপেক্টর নুরুল হক হাওলাদার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যায়। তখন সেখানে অনেক লোকজন জড়ো হয়ে গেছিল। দেখলাম সেখানে দুই ছেলেক কয়েকজন লোক লাঠিপেটা করে রক্তাক্ত জখম করে পেলেছে। তাদের জীবন রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ছিল। তবুও অনেক কষ্ট করে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
Leave a Reply