
দৈনিক সবুজ বাংলা ডেস্কঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জোরপূর্বক জায়গা দখল চেষ্টা ও ভুক্তভোগীর মায়ের মৃতদেহ কবর থেকে তোলে নিতে প্রতিপক্ষের হুমকির অভিযোগ করেছে ফরিদ আহমদ নামে এক ভুক্তভোগী পরিবার। ১৯৫৯ সালের রেজিস্ট্রীকৃত খরিদা দলিল মুলে বিএস রেকর্ডীয় মালিক ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড লস্কর পাড়া এলাকায় ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে পরিদর্শনে মোঃ রমজান নামে এক লোক তার দলবল নিয়ে ভুক্তভোগী ফরিদ আহমদের উপর আবারও হামলা চেষ্টা করে,স্থানীদের সহযোগিতায় হামলা থেকে রক্ষা পায় ভুক্তভোগী ফরিদ ও তার ছেলে ফাহিম।এসময় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও ব্যাপক বাকবিতন্ডা শুরু করে রমজান, একপর্যায়ে মোবাইলে ধারন করা ডিলেট করে দিতে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করে রমজান,তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করলে দেখাবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলে যায় রমজান।
ভুক্তভোগী ফরিদ আহমদের দাবি, আমি সিএনজি চালিয়ে পরিবার চালাই, ১৯৫৯ সনের রেজিস্ট্রার দলিলমুলে একই এলাকার ছিদ্দিক আহমদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর বাবা কবির আহমদ ২গণ্ডা, ২কড়া (আড়াই গণ্ডা) জমি ক্রয় করেন, তৎসময় থেকে খরিদা মালিক হিসেবে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখলে রয়েছে, তৎমতে বাবা কবির আহমেদের নামে বিএস জরিপ চুড়ান্ত প্রচার আছে। বাবার মৃত্যুর পর পূর্বের ন্যায় ভোগদখলে রয়েছে ভুক্তভোগী, সম্প্রতি তাঁর মাতা রোশনা খাতুন মৃত্যু বরণ করলে উক্ত জায়গাতেই মায়ের মৃতদেহ দাফন করা হয়।
জায়গাটিতে ঘেরাবেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষের শাকিব, আকিব, রাকিব, আবদুল খালেক,আব্দুল মালেক গংদের বাঁধার মুখে পড়ে ফরিদ, ইতিপূর্বেও পুরানো ঘেরাবেড়া গুলোও উপড়ে ফেলে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘেরাবেড়া উপড়ে দেয়ার একপর্যায়ে কবর থেকে ভুক্তভোগীর মায়ের লাশ তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষ, জায়গাতে ঘেরাবেড়া দিতে চাইলে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে কাজ করতে হবে বলে অভিযোগ করে ফরিদ আরও বলেন, ফকির পাড়া এলাকার মোঃ রমজন নামে এক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে কিছু উশৃংখল প্রক্রিয়ার লোক আমি ও আমার পরিবারকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতেছে,অভিযুক্ত রমজান একজন ইয়াবা চক্র সদস্য বলে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়া বলেন,
নালিশী জায়গাতে মোঃ রমজান নামের লোকটির কোনো জায়গা নেই, তার বাড়ীও অন্য একটি পাড়ায়, সে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, তাকে বেশ কয়েকবার ইয়াবাসহ গ্রেফতারও করেছে পুলিশ, সে মাদক মামলায় জেলও খেটেছে, টাকার বিনিময়ে তার দলবল নিয়ে নিরহ মানুষের জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মহোদয় বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছি, অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে তারা এহুমকি দিচ্ছে, বকাটেদের হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীন হয়ে জীবন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার, প্রতিপক্ষের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অসহায় ফরিদ। আদালতের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করেন এবং অভিযুক্ত রমজানের হাত থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে স্থানীয় মনির আহমদ, লেদু মিয়া, আব্দুস সালাম (পেচু)সহ ৭০ উর্ধ্বে বয়সী অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ বলেন, আমাদের বুদ্ধি বয়স থেকে এই জায়গাটি কবির আহমদের ভোগদখলে দেখেছি, কবির আহমদের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর ছেলে ফরিদ আহমদ ভোগদখলে রয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করে নেয়ার চেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী ফরিদ আহমদের মালিকানার কথা স্বীকার করে বিবাদী পক্ষের শাকিব বলেন, জায়গার মালিক ফরিদ আহমদ সেটা ঠিক আছে, কিন্তু আমরা আদালতে মামলা করেছি, মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ করতে পারবেনা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা? জানতে চাইলে নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও স্বীকার করে প্রতিপক্ষ। তাদের মালিকানা স্বপক্ষেও কোনো ডকুমেন্টস দেখাতে রাজি নন তারা।
Leave a Reply