
মুহাম্মদ দিদার হোসাইনঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরীর কোকদন্ডী এলাকায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গোপাল দাশ নামে এক হিন্দু পরিবারের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে, কালীপুর ইউনিয়নের গুনাগরী মধ্যম কোকদন্ডী মৌজার বিএস ৫৬৩ খতিয়ানের বিএস ২৬৬৩ ও ২৬৬৫ দাগের জায়গায় রেকর্ডীয় মালিক গোপাল দাশ প্রকাশ গোপাল মাস্টার পৈত্রিক সুত্রে পূর্বে থেকে ভোগদখলে রয়েছে। এরইমধ্যে তাঁর অসুস্থ এক প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসা খরচ ও পরিবারের টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়াতে উক্ত জায়গা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় মোঃ করিম ওরফে ভুমি করিমের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল বায়নামুলে মালিক দাবি করে উক্ত জায়গাতে তাদের নাম সংবলিত একটি সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক জায়গাদখল চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন জায়গার রেকর্ডীয় মালিক গোপাল দাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা।
মাস্টার গোপাল দাশের মেয়ে সাম্পা সরকার বলেন, আমার বাবা অসুস্থ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় ভাইটিও গুরুতর অসুস্থ। কোকদন্ডী স্কুলের সামনে সামান্য আচার- ঝালমুড়ি বিক্রি করে আমাদের পরিবারের খরচ বহন করে থাকি। বাবা ও ভাই গৌতম দাশের চিকিৎসার জন্যে টাকার প্রয়োজন হওয়াতে জায়গাটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তার বাবা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ভুমি করিম এবং টিংকু দাশ ফোন করে সম্পা সরকারের কাছ থেকে ২লাখ টাকা চাঁদাদাবি করেছে বলে অভিযোগ করে গোপালের মেয়ে আরও বলেন, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মহল প্রতিনিয়ত তাদের পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি- ধমকি দিচ্ছে, বর্তমানে পরিবার নিয়ে তারা নিরাপত্তাহীন ভাবে জীবন কাটাচ্ছেন, প্রভাবশালীদের হাত থেকে বাঁচতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে নালিশী জায়গাতে প্রভাবশালীদের নাম সংবলিত একটি সাইনবোর্ড দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে উক্ত জায়গাতে একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। বায়নামুলে মালিক দাবি করে টাঙ্গিয়ে দেয়া এসাইনবোর্ডটিতে মোঃ বাহাদুর, শাহেদুল ইসলাম,মোঃ করিম,মোঃ রিমন, জাহাঙ্গীরসহ পাঁচজনের নাম লেখা রয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পরিদর্শনকালে স্থানীয় সুধাংশু দাশ, প্রদ্বীপ দাশ, অরুণ দাশ, মোজাফফর আহমদ, নজির, মানিকসহ বেশ কিছু লোক বলেন, জায়গাটির মালিক গোপাল দাশ, কিন্ত ভুমি করিমরা রাতের আঁধারে এসে কি কারণে সাইনবোর্ড দিয়েছে সেটা আমরা জানিনা।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোঃ করিম এর সাথে যোগাযোগের একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি, তবে মোঃ বাহাদুর এবং শাহেদুল ইসলাম বলেন, বিএস রেকর্ডীয় মালিক গোপাল দাশ জায়গাটি বিক্রি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সাথে একটি লিখিত বায়নানামা সম্পাদন করার জায়গাটি আমাদেরকে না দিয়ে অন্যজনকে বিক্রি করে দিচ্ছে, তাই তারা জায়গাটিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছে বলে স্বীকার করলেও কোন ধরনের বায়নানামা দেখাতে পারেনি তারা। তবে বায়নানামার কথা অস্বীকার করে গোপাল দাশ বলেন, তাদের সাথে কোনো ধরনের বায়নানামা করেনাই, তবুও তারা মিথ্যা অযুহাত দেখিয়ে জায়গা দখল চেষ্টা করছে এবং কাউকে জায়গা বিক্রি করতে পারবেনা বলে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply