
মুহাম্মদ দিদার হোসাইনঃ
সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বড় উৎসব দুর্গোৎসব উদযাপন প্রস্তুতি উপলক্ষে আঞ্চলিক পূজা কমিটির সাথে উপজেলা পূজা কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা সদরস্থ শ্রীশ্রী অদ্বৈতানন্দ ঋষিমঠ ও মিশন মিলনায়তনে বাঁশখালী পূজা কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রণব কুমার দাশের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু সাজু দাশের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন, পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক ও বর্তমান উপদেষ্টা সুধির মল্লিকা রায়, পূজা কমিটির সাবেক সভাপতি লায়ন শেখের দত্ত, উপদেষ্টা অধর লাল চক্রবর্তী, পুজা কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মাস্টার শ্যামল কিশোর চৌধুরী, বাঁশখালী পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. আশীষ কুমার, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক বাবুল কান্তি দেব, সাধারণ সম্পাদক ঝন্টু কুমার দাশ, বাঁশখালী পূজা কমিটির সহ-সভাপতি সপন কুমার দাশ, সহ-সভাপতি রাজিব গুহ, সিনিয়র সদস্য পুলিন শীল, পৌরসভার সভাপতি নির্মল রুদ্র।
সভায় মতামত বিনিময় করেন পুকুরিয়া সভাপতি সুবল দে,সাধনপুর ইউপির সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, চাম্বল ইউনিয়ন সভাপতি নিউটন দাশ, বৈলছড়ী ইউনিয়ন সভাপতি শেখর চৌধুরী দে, জনি শীল দে, কালীপুর ইউনিয়ন সভাপতি প্রকৌশলী রনি সরকার, পুঁইছড়ী ইউনিয়ন সভাপতি রাম প্রসাদ দেব, শেখেরখীল ইউনিয়ন সভাপতি প্রণব দেব, শীলকূপ ইউনিয়ন সভাপতি শিপন দাশসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা। এসময় বাঁশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল মতলব কালু, প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক মোহাম্মদ এরশাদ, সদস্য সাংবাদিক মুহাম্মদ দিদার হোসাইনসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় বাঁশখালী পূজা কমিটির সভাপতি প্রণব কুমার দাশ শারদী দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্নে ও সুন্দর ভাবে পালন করতে জেলা পূজা কমিটির দেয়া বিভিন্ন দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এবছর বাঁশখালীর ৮৮ টি সার্বজনীন পূজা জেলা কমিটিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫ জন করে তিনটি গ্রুপ সিস্টেম করে অন্তত ১৫ জনের স্বেচ্ছাসেবক সদস্যের টিম থাকতে হবে এবং একটি করে রেজিস্ট্রার খাতা রাখতে হবে। কোন গ্রুপ কোন সময়ে দায়িত্ব পালন করবে সেটি রেজিস্ট্রার খাতায় নামসহ উল্লেখ থাকতে হবে এবং সদস্যদের স্বাক্ষর থাকতে হবে। কোন ধরনের সমস্যা দেখা গেলে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং উপজেলা পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি পার্শ্ববর্তী এলাকার রাজনৈতিক ও ছাত্র সমন্বয়কদের সাথে মতবিনিময় করে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা সংক্রান্তে সহযোগিতা নিতে পারবে। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের জবাব দিহিতা থাকতে হবে, প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবককে কার্ড প্রদান করা হবে। আযান ও নামাজের সময়ে মাইক ও সাউণ্ড সিষ্টেম বন্ধ করতে হবে। এতে পূজা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। মদপন করে করে পূজামণ্ডপে লাফালাফি করা থেকে সম্পূর্ণ রূপে বিরত থাকতে হবে। আর কোন অবস্থাতেই আইন হাতে তুলে নেয়া যাবেনা। এসব বিষয়ে আলোকপাত করেন সভাপতি প্রণব কুমার দাশ।
এছাড়াও ইউনিয়ন কমিটিতে সংস্কারের প্রসঙ্গে প্রণব কুমার দাশ আরো বলেন, যেসব কমিটি সংস্কার করা হয়েছে ওইসব কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে সদস্যদের নাম ও মোবাইল নাম্বারসহ তালিকা জমা দিতে বলেন, তাছাড়া যেসব পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা নেই ওইসব মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যাপারেও পরামর্শ দেন। পূজামণ্ডপে যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে যাতায়াত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দ্রুত আবেদন করতে বলেন সভাপতি প্রণব কুমার দাশ।
Leave a Reply