
মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা ৬ নং ওয়ার্ড বয়নাকাটা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে অন্তত ৩ শতাধিক পরিবারের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৭ মে (সোমবার) রাত আনুমানিক ৩ টা থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়াতে ওই এলাকায় বসবাসরত অন্তত ৩ শতাধিক পরিবারের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় ঘর থেকে বের হতে পারছেনা বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় ছগীর আহমদ, মোঃ হোসেন, ফরিদ, ইকবালসহ বেশ কয়েকজন লোক অভিযোগ করে বলেন, এলাকার পানি চলাচলের বহদ্দাখাল নামে যে খালটি রয়েছে সেটি অনেক প্রাচীনতম খাল। ওই খালের পানি নিষ্কাসনের কালভার্ট ছিলো, খালের সাথে সংযুক্ত সেই কালভার্টটি ভরাট করে স্থানীয় রাসেল চৌধুরী নামে এক প্রভাবশালী দোকান নির্মাণ করার ফলে পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় রিমাল প্রভাবে কারণে সোমবার রাত আনুমানিক ৩ টা থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়, এতে পুরো এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। মানুষের চলাচলের যেই সড়ক রয়েছে সেই প্রধান সড়কটি পানির নীচে ডুবে গেছে।যার ফলে মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরীর ভগ্নিপতি হওয়াতে তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। পানি নিষ্কাসন পথটি খোলে দেয়া না হলে আমাদের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়বে। তাই পানি নিষ্কাসনের পথটি দ্রুত খোলে দিয়ে এলাকার শত শত পরিবারের মানুষকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয়রা।
এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার বলেন,বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে এসিল্যান্ড আসছিল, পরবর্তীতে কি হয়েছে না হয়েছে সেটাতো আমি জানিনা। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমাল প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি হওয়াতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে রাসেল চৌধুরী বলেন, মূলত জায়গাটি আমার খরিদা জায়গা, ২০১৪ সালে জায়গাটি ভরাট করেছিলাম, পানি চলাচলের কোনো পথ এখানে ছিলোনা, কাঁচাবাজারের পানি যাতায়াতের জন্য আলাদা ড্রেন রয়েছে, আর রাস্তার দক্ষিণ পাশদিয়ে পানি চলাচল করতো, এলাকার মানুষ চাচ্ছে যে রাস্তার উত্তর পাশদিয়ে পানি চলাচল করুক। তাই তাদের আবদার রক্ষায় গতকালকে আমি নিজের টাকা খরচ করে প্লাস্টিকের পাইপ বসিয়ে আমার ড্রেনের সাথে কানেক্ট করে দিয়েছি। ছগীর আহমদ নামে এক লোক আমার কাছ থেকে রাইচ মিল করার জন্যে দোকান চেয়েছিলো, তাকে দোকান দিই নাই বলে আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে ছগীর,এইসব কথা বলেন রাসেল।
৭ নং সরল ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, এবিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বরাবর অভিযোগ দিয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড স্যার বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেছিলেন, সেখানে কোন খাল ছিলোনা, রাসেল চৌধুরীর জায়গার উপর দিয়ে পানি চলাচল করত, রাসেল চৌধুরী তার জায়গাতে ঘর নির্মাণ করেছে। তবে এই মূহুর্তে আমি চাম্বল ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের জানাজা পড়তে আসছি। পানিবন্দী হয়ে পড়ার বিষয়টি এইমাত্র আপনার কাছ থেকে শুনেছি। সকাল থেকে কেউ এবিষয়ে আমাকে বলেনাই। তবুও বিষয়টি দেখবেন বলে জানান চেয়ারম্যান রশিদ।
এব্যাপারে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সাথে যোগাযোগের একাধিক বার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply