
মুহাম্মদ দিদার হোসাইনঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের কোকদন্ডী গ্রামের ঋষিধামের প্রধান গেইট সংলগ্ন মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের শত শত বছরের প্রাচীনতম কবরস্থানটির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও খতমে কুরআন, মিলাদ মাহফিল ও জেয়ারত এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশেষ করে প্রতিবছর মুরব্বিদের ইছালে সাওয়াব উপলক্ষে পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র মাহে রমজানের শবে কদর, রবিউল আউয়াল মাসে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে খতমে কুরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন এই এলাকার মুসলিম সমাজের শত শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য, তারই ধারাবাহিকতায় এই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে বংশানুক্রমে ধারাবাহিক ভাবে পালিত হয় ধর্মীয় এই আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার আসলেই মুরব্বিদের জেয়ারতের উদ্দেশ্যে প্রাশীনতম এই কবরস্থানে ছুটে আসেন দূর দুরান্তে থাকা স্বজনরা। অনেক কর্মব্যস্ততার মাঝেও গত রমজান মাসের শেষের দিকে পবিত্র লাইলাতুলকদর উপলক্ষে অনেক জাঁকজমক আয়োজনের মধ্যদিয়ে এবছরও পালিত হয়েছে ইফতার মাহফিল, খতমে কুরআন, জেয়ারত এবং দোয়া মাহফিল। গ্রামের স্থানীয় মুসল্লীদের সার্বিক সহযোগিতায় করা হয় ওইসব আয়োজন।
মজার বিষয় হলো- এখানে একদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের কবরস্থান, অপরদিকে পাশাপাশি রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয় ঐতিহ্যবাহী ঋষিধাম ও শ্মশান, মুসলিম উম্মাহর কবরস্থানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ঋষিধামে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন ও শ্মশান কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়টি দেখলেই বুঝা যায়, জাতি- ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি রক্ষার এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বাংলাদেশ।
গত শবে কদর উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন বাঁশখালী হাকিমিয়া মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাওলানা মীর আহমদ। এসময় স্থানীয় মসজিদের খতিব মাওলানা নুরুল আবছার, ইস্টুকুটুম হোটেল মালিক মোঃ ছালেহ সওদাগর, মোঃ করিম সওদাগরসহ কয়েক শতাধিক মুসল্লীরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply